১
হায় হোসের হায় হোসেন হায় হায়, কলিজা মা ফাতিমার
খঞ্জরেরি নিঠুর আঘাত, নয় তো সে সব ভুলিবার।।
সীমারের ঐ পাষান বুকে নেইতো ভয় নেই নেই মায়া
প্রতিহিংসার করাল থাবায়, মনুষ্যত্ব আবছায়া
খুনের নেশায় বেপরোয়া, গনিমত লুটিবার।।
অবুঝ শিশুর নেই যে নিস্তার, ডুবলো পাপে এই ধরা
অধর্মেরই কাছে ধর্ম, পড়ে সেইদিন হাতকরা।
আল্লাহতালাই বোঝেন ভালো, কোথায় কিযে করিবার।
২
পানি নাইরে খাবার নাইরে তপ্ত চারিধার
কারবালারি প্রান্তরেতে শুধুই হাহাকার।।
স্বজন মরে ক্ষুধায় জ্বালায়, তলোয়ারের নিচে
নারী শিশু পায়না নিস্তার, শত্রু সামনে পিছে
চোখের সামনে শহীদ হলো পুরো পরিবার।।
নানার পাগড়ী, জামা এবং বাবার তলোয়ার
দুলদুলেরি পিঠে হোসেন হলেন যে সওয়ার
মহাত্রাসে কেঁপে ওঠে সবাই কারবালার।।
শত্রু মরে ঝাঁকে ঝাঁকে সামনে যেই আসে
কারবালা আজ তৃষ্ণা মেটায় এজিদ সেনা লাশে
দুলদুলেরি খুরের ধুলায় কারবালা আঁধার।।
পেছন থেকে তীর ছোরে হায় কাপুরুষের মতো
এজিদ সেনার তীরে তীরে বীর হলো আহত
শেষ হলো সব প্রিয় নবীর উত্তরাধিকার।।
৩
মা ফাতিমা কান্দেরে বেহেশতে লুটিয়া
প্রিয় পুত্র হোসেনেরই দুর্গতি দেখিয়া
বাবা আলী কান্দেরে বেহেশতে ছুটিয়া
পিপাশা কাতর আসগরের বুকে তীর বেধাঁ দেখিয়া।।
নববধূর বিয়ের লগন হয়নি তখন শেষ
মেহেদীর ঐ কাচা রঙ আর বধুর রঙিন বেশ
সকীনার সে সুখের স্বপ্ন রক্তে যায় যে ভাসিয়া।।
আহলে বায়াত পড়লো সেদিন
চরম দুর্গতিতে
রক্ত দিয়ে মানবজাতির পাপ দিলো মুছিতে
সেই শহীদের বীরগাঁথা যাই চোখের জ্বলে লিখিয়া।।
৪
মুয়াবিয়া পুত্র এজিদ করলি একি ভুল
নবীর বংশ ধ্বংশ করে হারালি দুই কুল।
অধর্মেরে ধর্ম ভেবে ডুবলি লোভের পাপে
দুইদিনেরই ক্ষমতাকে অসৎ ভাবে লাভে
মরিয়া তুই; ভাবলিনা যে করলি ভীষন ভুল।।
জগৎ মাঝে তোর নামে হায় মানুষ করে ছি! ছি!
মরিচিকার পিছে ছুটে মরলি মিছেমিছি
ক্ষমা পাওয়ার কোন সুযোগ রাখলিনা একচুল।।
৫
মহররমের দশ তারিখে কাঁদে সারা দুনিয়া
চোখের পানি ঝড়ে পরে সেই কাহিনী শুনিয়া।
প্রিয় নবীর প্রিয় নাতির খুনে মাটি লাল
কারবালাতে ঘনিয়ে আসে নবীর বংশে কাল
সর্বশক্তিমান আল্লাহ চুপ কেন সব জানিয়া?।।
ফোরাত নদীর পানির ধারা আজো বয়ে যায়
সেই দিনের সে করুন স্মৃতি, বুকে নিয়ে হায়
আমরা ভাসি নয়ন জলে, আজ স্মরণে আনিয়া।।
x
Comments
Post a Comment